সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলা চালানোর হুমকি হুতিদের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলা চালানোর হুমকি হুতিদের

অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবের কৌশলগত সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রচারিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এসব অবকাঠামোকে তাদের ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে দাবি করে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত বিশ্বখ্যাত তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র সদর দপ্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি সাধনের পরপরই হুতিদের পক্ষ থেকে এই নতুন সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরটি আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স সৌদি আরবগামী তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এছাড়া মঙ্গলবার রাতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ শহর ধাহরানে আরামকোর মূল প্রশাসনিক সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ভবনের কয়েকটি তলায় আগুন ধরে যায়। ধাহরানের এই কেন্দ্র থেকেই সৌদির সমস্ত সমুদ্র ও স্থলভাগের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন এবং শোধনাগার তদারকি করা হয়। ঘটনার পর কর্মীদের হোম-অফিস বা বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সাথে বুধবার রিয়াদে আরামকোর একটি শোধনাগার এবং কিং খালেদ বিমানবন্দরে ফের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা।

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর পক্ষে সৌদি জোটের পুনরায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। তারা স্পষ্ট ভাষায় বেসামরিক নাগরিক, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও তেল খাতের শ্রমিকদের অবিলম্বে এসব বিপজ্জনক এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিভাষী ‘ভিশন ২০৩০’ তথা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এদিকে, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেন যুদ্ধে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর কিছুদিন শান্ত পরিস্থিতি বজায় থাকলেও সম্প্রতি হুতিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রযাত্রা শুরু করলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, ইয়েমেনের রণাঙ্গনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায় যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হুতিদের কঠিন অবরুদ্ধতার কারণে তাইজ শহরে প্রায় ২ লাখ নারী ও শিশুসহ ৬ লাখের বেশি মানুষের কাছে জরুরি জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।