সৌদি আরামকোর ভবনে হুথিদের ড্রোন ও রকেট হামলা
অনলাইন ডেস্ক: ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরবের বিশ্বখ্যাত রাষ্ট্রীয় তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'সৌদি আরামকো'-র প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় ধাহরান শহরে অবস্থিত আরামকোর প্রধান প্রশাসনিক ভবনে এই সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ভবনটিতে দ্রুত অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে উদ্ধারকারী দল। তবে এতে কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধাহরানে আরামকোর কৌশলগত কার্যালয়ে আক্রমণের একই সময়ে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথিরা। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় আকাশেই ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিহত করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধারালো ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকার ওপর আছড়ে পড়ায় চারজন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের কৌশলগত তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে বসবাসকারী সাধারণ নাগরিক ও কর্মচারীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বা লাল সতর্কতা জারি করেছিলেন। হুথিদের পক্ষ থেকে এই অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে তাদের রাজনৈতিক যুদ্ধের ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সৌদি জোট সানায় অবস্থিত ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির ‘আল-সাবাহ’ কেন্দ্রীয় স্থাপনা প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, সানার তেল অবকাঠামোতে যেকোনো বোমাবর্ষণের ফলস্বরূপ সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
সানায় আক্রমণ এবং তার জবাবে রিয়াদ ও আরামকোর স্থাপনায় হুথিদের এই প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের সার্বিক সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।