মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ৪ মাসে দ্বিগুণ আমদানি

প্রকাশ: রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ৪ মাসে দ্বিগুণ আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। বছরের প্রথম চার মাসেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তবে আমদানির তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে খুবই সামান্য।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ। মোট আমদানির ৩৮ শতাংশই করেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান— পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল ১০টি নির্দিষ্ট পণ্য। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এলএনজি (৪,৯১৩ কোটি টাকা), যা আমদানি করেছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে 

 এলপিজি: ৩,১০৫ কোটি টাকা। 

 গম: ১,৭৯৭ কোটি টাকা। 

 উড়োজাহাজের ইঞ্জিন: ১,৮৫২ কোটি টাকা। 

 মার্কিন তুলা: ১,০৮০ কোটি টাকা।

আমদানি ১০১ শতাংশ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩.৩২ শতাংশ (৩৫,৪৬২ কোটি টাকা)। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৪,৫০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নিতে রাজি হয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১,৬৩৮টি পণ্যের ওপর থেকে প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করলেও ১৬-১৭ শতাংশ গড় শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম জানান, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের লাভ বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মার্কিন আদালতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে সম্প্রতি রায় আসায় এবং মালয়েশিয়া একই ধরনের চুক্তি বাতিল করায় এআরটি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ বড় অঙ্কের আমদানি শুরু করে দিয়েছে, যার মধ্যে বোয়িং থেকে বিমান বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি অন্যতম।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন