পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ও সহজ অর্থায়নের জোর তাগিদ সিপিডির

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ণ
পোশাক কারখানায় সবুজ প্রযুক্তি ও সহজ অর্থায়নের জোর তাগিদ সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের মূল চালিকাশক্তি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কারখানায় দ্রুত সবুজ বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার জোরালো তাগিদ দিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বোনাইজেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর : হাউ টু টেক ইট ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক এক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে বিশেষ বিশ্লেষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে এই মত প্রকাশ করা হয়।

উপস্থাপিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন 'কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম' (সিবিএএম) নীতি এবং বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর শূন্য-কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বাংলাদেশি প্রস্তুতকারকদের দ্রুত স্বল্প-কার্বনভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে হবে।

সেমিনারে মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "পোশাক খাতের এই পরিবেশবান্ধব রূপান্তরকে টেকসই রূপ দিতে জরুরি নীতিগত ও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের (এসএমই) কারখানাগুলোকে সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকেও প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা পাওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করা আবশ্যক।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারখানায় প্রতিদিনের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ নিখুঁতভাবে পরিমাপ ও মূল্যায়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত ডাটা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের কার্বন নিঃসরণের সুনির্দিষ্ট মাত্রা চিহ্নিত করতে পারবে এবং তা কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

সিপিডির প্রতিবেদনে কারখানাগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বৃদ্ধির মূল ক্ষেত্রগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বস্ত্র খাতের ডাইং, উইভিং, ওয়াশিং ও ফিনিশিংয়ের মতো প্রক্রিয়াকরণ ধাপে ব্যাপক তাপ ও বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহৃত হয়, যা কার্বন নিঃসরণের মূল উৎস। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বা পুরোনো প্রযুক্তির বয়লার, প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত জেনারেটর এবং বিদেশ থেকে তুলা ও রাসায়নিক সামগ্রী পরিবহনের কারণেও সামগ্রিক কার্বন নির্গমন বাড়ছে।

অবশ্য বিশ্বজুড়ে সবুজ শিল্পায়নের দৌড়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসনীয় স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লিড (LEED) সার্টিফায়েড বা পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও বিজিএমইএ-র সবুজ উদ্যোগ সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্যের জন্য বিজিএমইএ-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে পারেন।

মন্তব্য করুন