ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক (ইস্তাম্বুল): মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন এবং ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোকে ডায়োরোমার (ত্রিমাত্রিক মডেল) মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে ইস্তাম্বুলে নির্মিত হয়েছে ‘সীরাত শিক্ষা কেন্দ্র ডায়োরামা মিউজিয়াম’। আগামীকাল (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) দর্শকদের জন্য মিউজিয়ামটির দ্বার উন্মোচন করা হবে।

ইস্তাম্বুলের আইয়ুব সুলতানে অবস্থিত সীরাত ফাউন্ডেশনের মূল কেন্দ্রে এই মিউজিয়ামটি স্থাপন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—সীরাতকে কেবল পাঠ্যপুস্তকের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য এবং অনুভব করার মতো একটি অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করা।
ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও ডায়োরোমার সংমিশ্রণ: মিউজিয়ামটিতে মক্কা ও মদিনাসহ ইসলামি ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণকারী শহর এবং ঘটনাগুলোকে ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছে। আলোকসজ্জা ও ত্রিমাত্রিক মডেলের মাধ্যমে মক্কা, মদিনা, তায়েফ, খায়বর এবং তাবুকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া আল-আকসা মসজিদ ও কাবা শরীফের প্রতিকৃতিসহ বদর, ওহুদ ও খন্দকের যুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো এখানে সচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন: দর্শনার্থীরা মিউজিয়ামটিতে মক্কার সরু গলি থেকে শুরু করে মদিনার জনবসতি বিন্যাস, হিজরতের রোমাঞ্চকর পথ এবং ইসলামি সমাজ গঠনের প্রক্রিয়াগুলো ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। মিউজিয়ামটিতে তুর্কি, আরবি এবং ইংরেজি—এই তিন ভাষায় নির্দেশনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের জন্য সহায়ক হবে।

উদ্যোক্তার বক্তব্য: সীরাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ এমিন ইলদিরিম আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, "সীরাত বোঝার ক্ষেত্রে ভূগোল ও স্থান নির্ধারণী ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলোর অনেক চিহ্নই হারিয়ে গেছে। মক্কা-মদিনার ভৌগোলিক পরিবর্তন সীরাত বোঝা কঠিন করে তুলছে। আমরা চেয়েছি ১৪০০ বছরের এই সময়ের ব্যবধান এবং ভৌগোলিক দূরত্বের শূন্যতা পূরণ করতে। যাতে মানুষ রাসুল (সা.) এবং সাহাবীদের ত্যাগ ও কষ্টের দিনগুলো অনুভব করতে পারে।"

তিনি আরও জানান, এই মিউজিয়ামটি নির্মাণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ঐতিহাসিক সূত্রের বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। হিজরতের প্রতিটি স্টপেজ ও চড়াই-উতরাই এখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ