শরিয়তবিরোধী জীবনস্বত্ব হেবা আইন বাতিলের দাবি তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়ার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ণ
শরিয়তবিরোধী জীবনস্বত্ব হেবা আইন বাতিলের দাবি তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়ার

বিশেষ সংবাদদাতা: মুসলিম পারিবারিক আইন ও ইসলামী মিরাসব্যবস্থার মৌলিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বা বিধান মুসলিম সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন আলেম-ওলামারা। শরিয়াহসম্মত হেবা ব্যবস্থাকে বিকৃত বা সীমিত করার যেকোনো উদ্যোগ থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে কথিত ‘জীবনস্বত্ব হেবা’ সংক্রান্ত শরিয়তবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আফতাবনগর মাদ্রাসা মিলনায়তনে তাহাফফুজে মাদারিসে কওমিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে "তাহাফফুজে ফিকরে দেওবন্দ, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং জীবনস্বত্ব রেখে হেবা আইন" শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মুফতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মুফতি হাফিজ উদ্দিনের পরিচালনায় এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন কাসেমী।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ইসলামী শরিয়তে সম্পত্তি হস্তান্তর, দান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ এবং ফিকহের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। শরিয়াহসম্মত হেবার মৌলিক শর্ত পরিবর্তন করে ‘জীবনস্বত্ব হেবা’র মতো বিতর্কিত ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ফিকরে দেওবন্দ ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা-ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, বাতিল ফেরকা ও বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দরসে নিজামির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে ইংরেজি ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান ও যুগোপযোগী দক্ষতা যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সাথে দেওবন্দী বোর্ড ও সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়, মানসম্পন্ন অনুবাদ, গবেষণা বাড়ানো এবং অপপ্রচার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

বৈঠকে বক্তব্য রাখেন মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মুফতি হেমায়েত উল্লাহ, মুফতি শফিকুল ইসলাম, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি ওমর ফারুক, মাওলানা আব্দুর রহমান কোববাদী, মুফতি সাঈদ আহমদ কলরব, মুফতি আবু যর, মুফতি ফয়সাল ওমর, মুফতি ওমর ফারুক কাসেমীসহ অন্যান্য শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন