‘স্লিপ শেমিং’ বা ঘুম নিয়ে খোটা দেওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ণ
‘স্লিপ শেমিং’ বা ঘুম নিয়ে খোটা দেওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক ‘এত ঘুমাও কেন?’, ‘সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে পারো না?’—বাসা-বাড়ি কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এমন কথা প্রায়ই শুনতে হয় দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা মানুষদের। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ঘুমানোকে অর্জনের প্রতীক মনে করা এবং ঘুম নিয়ে অন্যকে লজ্জা দেওয়া—যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'স্লিপ শেমিং' (Sleep Shaming)—তা জীবনের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বিস্তারিত সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ভারতের প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মানান ভোহরা জানান, আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে পর্যাপ্ত ঘুমকে প্রায়শই ‘অলসতা’ বা 'সময় নষ্ট' হিসেবে দেখার একটা প্রবণতা রয়েছে। অথচ শরীরের প্রাকৃতিক চাহিদা পূর্ণ না হতেই কাউকে জোরপূর্বক জাগিয়ে তোলা হলে তা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন:

"ঘুম সময় নষ্ট করার কোনো বিষয় নয়। পরিমিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মূলত মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে, মন মেজাজ ভালো রাখে, দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।"

অন্যদিকে, দিল্লির পিএসআরআই (PSRI) হাসপাতালের ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. নীতু জৈন বলেন, সমাজে অনেকেই কম ঘুমকে কঠিন পরিশ্রম বা অতিরিক্ত কর্মদক্ষতার প্রতীক মনে করে থাকেন। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমানো মানুষকে অলস বলে আখ্যা দেন। বিজ্ঞান এই অন্ধবিশ্বাস বা সামাজিক ধারণাকে কখনোই সমর্থন করে না।

তার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত না ঘুমালে মানুষের মনোযোগ কমে যায়, কার্যক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।

চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নিয়মিত কম ঘুমানোর অভ্যাস শরীরে যে সব জটিল রোগের বীজ বপন করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি

  • টাইপ-২ ডায়াবেটিস

  • উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস পাওয়া

  • তীব্র মানসিক উদ্বেগ, বিষণ্নতা (Depression) এমনকি ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম)

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বিশ্বের সব মানুষের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা শারীরিক ঘড়ি এক নয়। কারও শরীর সকালে বেশি কর্মক্ষম থাকে, আবার কেউ রাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন। ফলে কেবল ভোরে ওঠাই যে সুশৃঙ্খল জীবনের একমাত্র পরিচয়—এই ধারণার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই।

তাই শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মতোই পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা।

মন্তব্য করুন