২০ মাসের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি; ফরাসি ফুটবলার ওলিসেক ঘিরে তোলপাড়

প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
২০ মাসের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি; ফরাসি ফুটবলার ওলিসেক ঘিরে তোলপাড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক: সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে সফর শেষ করেছিল ফ্রান্স। দল চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলেও পুরো টুর্নামেন্টে ফরাসিদের হয়ে সবচেয়ে নজরকাড়া ফুটবলারদের একজন ছিলেন তরুণ উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে। কিন্তু বিশ্বকাপ মিশন শেষ হতেই মাঠের বাইরের এক তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।

এক জার্মান নারী দাবি করেছেন, তাঁর ২০ মাস বয়সী কন্যাসন্তানের বাবা মূলত মাইকেল ওলিসেই। ঘটনাটি এখন গড়াল আদালত ও আইনি লড়াই পর্যন্ত।

জার্মানির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম বিল্ড-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী ফাতিমা জোনব্রিশার জানান, ওলিসের সাথে তাঁর পরিচয় অনেক পুরোনো। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলতেন ওলিসে, তখনই পরিচয় হয় তাঁদের। পরবর্তীতে দীর্ঘ দু’বছর চুটিয়ে প্রেম ও সম্পর্কের পর তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পরেই ফাতিমা জানতে পারেন যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা।

ফাতিমার দাবি, জার্মানির মিউনিখে করানো ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায় ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তাঁর কন্যাসন্তান ‘আলিয়া নূর’-এর বাবা মাইকেল ওলিসেই। এরপর থেকেই তিনি অভিযোগ তুলে আসছেন—ওলিসে কখনোই তাঁর ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি এবং কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্যও প্রদান করেননি।

ফাতিমা অভিযোগ করে বলেন:

"আমার নিষ্পাপ সন্তানের প্রতি ওঁর এই নিষ্ঠুর ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। ওলিসে কখনোই সরাসরি যোগাযোগ করেন না, সব ধরনের বার্তা আসে তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে।"

ফাতিমার ভাষ্যমতে, শুরুতে ওলিসের আইনি দল মাসে ৮৩৬ ইউরো প্রদানের প্রস্তাব দেয়, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ২,০০০ ইউরো পর্যন্ত করা হলেও গত দু'বছরে বাস্তবে এক টাকাও তিনি পাননি।

অভিযোগ অস্বীকার ওলিসের আইনি দলের: এদিকে ফাতিমার তোলা সমস্ত অভিযোগ কঠোরভাবে উড়িয়ে দিয়েছে মাইকেল ওলিসের প্রতিনিধিত্বকারী আইনি টিম। তাঁদের দাবি, শুরু থেকেই সন্তানের সার্বিক খরচের জন্য আর্থিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে ওলিসে এখনো প্রস্তুত রয়েছেন।

পাশাপাশি ওলিসের প্রতিনিধিরা পাল্টা দাবি করে জানান, ফাতিমা সমঝোতার নামে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে মাসে প্রায় ৬০ হাজার ইউরো (বিপুল অংকের টাকা) ভরণপোষণ হিসেবে দাবি করছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়।

ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করা এই তরুণ ফুটবলারের জন্য এই আইনি ঝামেলা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে ফরাসিদের জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী এই তারকা মাঠের নৈপুণ্যে প্রশংসা পেলেও, ব্যক্তিগত জীবনের এই আইনি জটিলতায় এখন বেশ চাপের মুখে পড়েছেন।

মন্তব্য করুন