আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটন সফরে থাকা ব্রিটিশ রাজা চার্লস মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেওয়া এই ভাষণে তিনি গণতন্ত্রের সুরক্ষা, বিশ্ব নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সুতীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন, যাকে বিশ্লেষকরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। রাজা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম না নিলেও তার প্রতিটি শব্দ ছিল অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ।
রাজা চার্লস তার ভাষণে ১২১৫ সালের ‘ম্যাগনা কার্টার’ উদাহরণ টেনে ক্ষমতার ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপ্রধান বা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কখনোই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতা চর্চার প্রেক্ষাপটে রাজার এই মন্তব্যকে অনেকেই ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন।
ন্যাটো ও ইউক্রেন নিয়ে অনড় অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ন্যাটোর গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং ইউক্রেন সহায়তা বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তখন রাজা চার্লস সম্পূর্ণ বিপরীত সুর ধরেন। তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজ ইউক্রেনের সাহসী জনগণের সুরক্ষায় সেই একই অবিচল সংকল্প প্রয়োজন। উল্লেখ্য, আগামী ডিসেম্বরে মায়ামিতে পুতিনকে জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর ট্রাম্পের পরিকল্পনার মাঝে রাজার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষা পরিবেশ আইন শিথিলের ট্রাম্পীয় নীতির বিপরীতে রাজা চার্লস প্রকৃতির সুরক্ষাকে ‘যৌথ দায়িত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তার এই পরিবেশবাদী অবস্থান ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শিল্প নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
জেমস কোমির বিরুদ্ধে মামলা ও নতুন বিতর্ক রাজার ভাষণের মাঝেই জানা যায়, ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযোগ গঠন করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কোমির একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, যাকে সমালোচকরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার (এসপিএলসি) ট্রাম্প প্রশাসন ও ক্যাস প্যাটেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজা চার্লস রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখেও যেভাবে শাসন ব্যবস্থার মূল স্তম্ভগুলো নিয়ে কথা বলেছেন, তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ‘কূটনৈতিক অস্বস্তি’ তৈরি করেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
সূত্র: মিডিয়াস টাচ
আই.এ/সকালবেলা