চুক্তিহীন সমাপ্তি: এরপর কী হবে?

চুক্তিহীন সমাপ্তি: এরপর কী হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনায় আসায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল। দুই পক্ষই একে অপরের ওপর ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে আলোচনার টেবিল ত্যাগ করায় এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—‘এরপর কী হবে?’

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম হুমকির কারণে। ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তি না হলে তিনি ‘ইরানি সভ্যতা ধ্বংস’ করে দেবেন। আলোচনা ভেঙে যাওয়ায় এখন ইরানের ওপর পুনরায় মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার শঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা এখন প্রায় বিলীন। ইরান কার্যকরভাবে এই জলপথটি আংশিক অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর বিপরীতে উপসাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন এখন আলোচনার বদলে শক্তির মাধ্যমে পথ খোলার চিন্তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে গত এক বছরে দুটি বড় যুদ্ধ ইরানের ভেতরে ‘চূড়ান্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা’ বা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। কয়েক দশকের চরম বৈরিতার পর এই সরাসরি বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়াই এটি শেষ হওয়ায় এটি এখন ‘কূটনীতির এক চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সংকটের মূলে রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত এবং তার পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা। আলোচনার এই অচলাবস্থার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ।

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথকে তাদের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা হিসেবে দাবি করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট ও ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একবার বলছেন, এই অঞ্চল (হরমুজ প্রণালি) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার কয়েকদিন পরেই একে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ঘোষণা করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা শুরু হয়। ইরান এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয় ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন