ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাকে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালে সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এসে শিশুরা নতুন করে হামে আক্রান্ত হওয়ায় সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ২০ শয্যার এই বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডটি কার্যকর হবে।
কুতুবদিয়ার বাসিন্দা আমেনার ৬ মাস বয়সী শিশু আফলান নিউমোনিয়া নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও পরবর্তীতে সে হামে আক্রান্ত হয়। আফলানের মতো অনেক শিশুই সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এসে অত্যন্ত সংক্রামক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ভেতরেই ছোট একটি জায়গায় হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় সুস্থ শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি শিশু ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৯ মার্চ থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ জনে। ল্যাব পরীক্ষায় ইতিমধ্যে ৩৪ জনের শরীরে হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৬০ জন শিশু চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সুস্থ শিশুদের সুরক্ষায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডের বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কক্সবাজারকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন উপজেলায় ইতিমধ্যে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহীউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, সংক্রমণের শেকল ভাঙতে এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত টিকাদান ও আইসোলেশন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ