ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
অনলাইন ডেস্ক: স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি শারীরিক সমস্যা, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হাইপারহাইড্রোসিস' নামে পরিচিত। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো পরিশ্রম বা গরম আবহাওয়া ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে ঘামতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে ঘাম এত বেশি হয় যে পরনের কাপড় ভিজে যায় এবং হাতের তালু থেকে ঘাম ঝরতে থাকে। এটি কেবল শারীরিক অস্বস্তিই নয়, বরং আক্রান্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চিকিৎসকদের মতে, হাইপারহাইড্রোসিসের প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের দুই পাশে (যেমন দুই হাত বা দুই পা) অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। সাধারণত বগল, মুখমণ্ডল, হাতের তালু ও পায়ের পাতায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সপ্তাহে অন্তত একবার এমন ঘাম হওয়া এই রোগের লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যা দুই ধরনের হয়ে থাকে—প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি হাইপারহাইড্রোসিস মূলত স্নায়ুর ভুল সংকেতের কারণে হয় এবং এটি বংশগত হতে পারে। অন্যদিকে, সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস হয় অন্য কোনো রোগের প্রভাবে, যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, মেনোপজ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে।
অতিরিক্ত ঘাম হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি ঘাম দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, রাতে অস্বাভাবিক ঘাম হয় কিংবা হঠাৎ করে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে ঘামের সাথে মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা দ্রুত হৃদস্পন্দন গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যান্টিপারসপিরেন্ট বা নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতাই পারে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ