কালীগঞ্জে ঝুঁকিতে ২ ব্রিজ, চরম দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

কালীগঞ্জে ঝুঁকিতে ২ ব্রিজ, চরম দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের গেগড়া এলাকায় অবস্থিত দুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিজ দুটি এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গেগড়া ব্রিজটির রেলিংগুলো ভেঙে পড়েছে এবং পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই ওয়ার্ডের দামালের পাড় গেগড়া বিল সংলগ্ন ব্রিজের ডেক ও গার্ডার/বিম ভেঙে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। জরাজীর্ণ এই ব্রিজ দুটি দিয়েই প্রতিদিন তিনটি ইটভাটার ভারী ট্রাক ও ইটের গাড়ি চলাচল করে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আমরা এই ভাঙা ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছি। সন্তানরা স্কুলে গেলে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি।"

কৃষক মোকছেদ আলী জানান, ফসলের গাড়ি এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যেতে চায় না, ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনে তাদের অতিরিক্ত খরচ ও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দামালের পাড় এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ব্রিজের ওপর দিয়ে গরু-ছাগল পর্যন্ত নিরাপদে পারাপার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি এই অবস্থায় থাকলেও দেখার কেউ নেই।

দলগ্রাম ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ইমান আলী জাদু বলেন, "৩টি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই দুটি ব্রিজ। গেগড়া ব্রিজের রেলিং না থাকায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং দামালের পাড়ের ব্রিজটি মাঝে ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত প্রায় বিচ্ছিন্ন। জনস্বার্থে দ্রুত এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।"

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, "গেগড়া ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আমরা এটি পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অপর ভেঙে যাওয়া ব্রিজটিও পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সেখানেও নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন