রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ সিন্ডিকেট: চলছে একচ্ছত্র আধিপত্য

রামেকে টেন্ডার ও নিয়োগ সিন্ডিকেট: চলছে একচ্ছত্র আধিপত্য

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে টেন্ডার বাণিজ্য, আউটসোর্সিং নিয়োগ এবং বিভিন্ন সেবা খাতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের মূলে রয়েছেন পিএ এস.এম রাশিদুল সালেকিন (সুমন), যাঁর নেতৃত্বে ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৮-১০ জনের একটি দল সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজপাড়া এলাকার শরীফা বেগম নামে এক নারী পরিচ্ছন্নকর্মী পদে চাকরির আশায় ওয়ার্ড মাস্টার রাসেল আলী ও মো. শহিদুলকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তাঁকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন না দিয়ে মাত্র ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ী করার কথা বলে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় তাঁর পরিচয়পত্র ও পোশাক কেড়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমলী আদালত রাজপাড়ায় মামলা (নং ৪৩৭) হলেও ভুক্তভোগী তাঁর টাকা ফেরত পাননি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপপরিচালক ডা. হাছানুল হাবিব ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেবের মদদে পিএ সুমন বিগত আওয়ামী আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দাপটের সাথে তাঁর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সদ্য যোগদানকৃত পরিচালকের কাজে অসহযোগিতা এবং হাসপাতালকে নিজেদের মতো করে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ৩৩ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইলেও এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের সুনাম রক্ষায় কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি বলে জানা গেছে।

ওয়ার্ড মাস্টার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ইউনিট ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুনে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা ইতিপূর্বে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য সচিব ও ডিজি বরাবর একাধিক অভিযোগ দিলেও সিন্ডিকেটের প্রভাবে কোনো ব্যবস্থাই আলোর মুখ দেখেনি। বারবার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেবল ‘সতর্কতামূলক’ ব্যবস্থা নিয়ে দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. আবু তালেব বলেন, “হাসপাতালের সার্বিক বিষয় পরিচালক তদারকি করেন, বিস্তারিত তিনিই বলতে পারবেন।” অভিযুক্ত পিএ এস.এম রাশিদুল সালেকিন সুমনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই দীর্ঘস্থায়ী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সাধারণ রোগী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন