নিজস্ব প্রতিবেদক >>>
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির সাত ‘বিদ্রোহী’ সংসদ সদস্য এখনই মূল দলে ফিরছেন না। বরং সংসদে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে তারা পৃথক জোট গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে সংসদের সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ভুলত্রুটি তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া।
জোট গঠনের এই প্রক্রিয়ায় মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিজয়ী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি ইতোমধ্যে অন্য বিজয়ী এমপিদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। খোদ বিএনপির হাইকমান্ড থেকেও এই উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
নতুন এই জোটের পরিকল্পনার বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা একটি স্বতন্ত্র জোট গঠন করছি এবং সংসদে বিরোধী অবস্থানে থেকে ভূমিকা রাখব। আমাদের লক্ষ্য হবে বিএনপি ও জামায়াতের গঠনমূলক সমালোচনা করা। আশা করছি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে পারব।”
নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। এর ফলে অনেক আসনেই ভোট বিভক্ত হয়ে যায় এবং শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় ঘটে। তবে প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যে সাতজন বিজয়ী হয়ে এসেছেন তারা হলেন— কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪ আসনের আবদুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।
সূত্র জানায়, জোট গঠনের এই বিষয়টি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে এই বিজয়ীদের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হলে তারা পৃথক জোট গঠনের বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করেছেন। সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তারা স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করবেন।
জোটের সম্ভাব্য প্রধান হতে পারেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এই জোটের বিপরীতে তারা দুইজন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য নেওয়ার সুযোগও পাবেন।
সরাসরি বিএনপিতে যোগ না দিয়ে কেন পৃথক জোট করছেন— এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজয়ী এমপি একটি গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনে বিএনপির অভাবনীয় বিজয় হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এখনই দলে যোগ দিলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই তারা স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে সংসদে নিজেদের গুরুত্ব বজায় রাখতে চান।
এন.এ/সকালবেলা