ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজনে (ডিভাইডার) ফুটেছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল। বসন্তের এই সময়ে সড়কজুড়ে থাকা বর্ণিল ফুলের সমারোহ দেখে মনে হতে পারে এটি জাপানের কোনো দৃষ্টিনন্দন সড়ক। সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে এখানে ছবি ও ভিডিও তুলছেন।
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কটি এখন বসন্তের কাব্যিক রূপে সেজেছে। মহাসড়কের বিভাজন জুড়ে ফুটেছে:
জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা: হালকা ও গাঢ় গোলাপি এই ফুলটি মহাসড়ককে জাপানের চেরি ব্লসমের মতো আবহ দিচ্ছে।
দেশি প্রজাতি: রক্তরাঙা পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নীল কাঞ্চন, জারুল, সোনালু ও রক্ত করবী।
অন্যান্য গাছ: কামিনী, কদম, বকুল, কাঠবাদাম এবং কনক চাঁপা।
উত্তরা থেকে আসা শিক্ষার্থী আহনাফ বলেন, "ফেসবুকে ভিডিও দেখে সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে অন্য এক পরিবেশে প্রবেশ করেছি।" নেত্রকোনাগামী এক যাত্রী জানান, দীর্ঘ যাত্রার একঘেয়েমি দূর করতে এই দৃষ্টিনন্দন সড়ক চোখে প্রশান্তি এনে দেয়।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) জানায়, মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রায় ৭-৮ বছর আগে ডিভাইডারে এই গাছগুলো রোপণ করা হয়। নিয়মিত পরিচর্যা ও ছাঁটাইয়ের ফলে এখন গাছগুলো পূর্ণতা পেয়েছে।
সওজ ময়মনসিংহের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন বলেন:
"মহাসড়ক শুধু যাতায়াতের পথ নয়, এটি জনপদের মুখচ্ছবি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও নান্দনিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
পরিবেশবিদদের মতে, মহাসড়কের মিডিয়ানে থাকা এই গাছের সারি ধুলাবালি ও কার্বন শোষণে সহায়ক এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সৌন্দর্যের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার পরিচিতিও বাড়ছে।
সওজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো পুনরায় রোপণ করা হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় গাছগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বর্তমানে এই মহাসড়কটি যাতায়াতের মাধ্যমের পাশাপাশি বসন্তের সৌন্দর্য প্রদর্শনের এক দৃষ্টিনন্দন করিডরে পরিণত হয়েছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ