ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অনুষ্ঠিত ‘ইউনিটি অব আহলে সুন্নাহ’ (আহলে সুন্নাহ ঐক্য সম্মেলন) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। দীর্ঘদিনের মতাদর্শগত দূরত্ব ঘুচিয়ে সিরিয়ার প্রভাবশালী সুফি ও সালাফি ঘরানার শীর্ষ আলেমরা একই মঞ্চে উপবিষ্ট হয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সিরিয়ার বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আল-শারা’র বিশেষ মধ্যস্থতায় এই বিরল মেলবন্ধন সম্ভব হয়েছে।
সম্মেলন থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ফারুক আল-শারা’র ঠিক ডান পাশে বসে আছেন লেভান্ট অঞ্চলের সুফিবাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ও সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ উসামা আল-রিফাই। অন্যদিকে, আল-শারা’র বাম পাশে দেখা গেছে ওই অঞ্চলের সালাফি মতাদর্শের প্রভাবশালী প্রতিনিধি শেখ আবদ আল-রহিম আততুনকে। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ও ধর্মীয় রাজনীতিতে এই দুই ব্যক্তিত্বের অবস্থান বিপরীতমুখী হলেও আহলে সুন্নাহর পতাকাতলে তাঁদের এই উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিভেদ ভুলে একটি শক্তিশালী জাতীয় ও ধর্মীয় সংহতি তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। ফারুক আল-শারা তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে এই দুই বিপরীত মেরুর আলেমদের একই ফ্রেমে নিয়ে আসা।
সম্মেলনে উপস্থিত আলেমরা একমত হয়েছেন যে, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অভ্যন্তরীণ বিভেদ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সালাফি ও সুফি ঘরানার এই ঐক্য কেবল সিরিয়ায় নয়, বরং পুরো লেভান্ট (সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিন) অঞ্চলের সুন্নি মুসলিমদের সংহতির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘সিরিয়ার আগামীর আশার আলো’ হিসেবে বর্ণনা করছেন নেটিজেনরা।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ