ছাত্রদলে সম্পৃক্ততায় দুই দশক পদোন্নতি বঞ্চিত ডিআইজি নজমুল

ছাত্রদলে সম্পৃক্ততায় দুই দশক পদোন্নতি বঞ্চিত ডিআইজি নজমুল

নজমুল হোসেন দিদার

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পদোন্নতি ও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত থাকা বিসিএস (পুলিশ) ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা নজমুল হোসেন দিদার অবশেষে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দীন হলের শিক্ষার্থী থাকাকালীন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে চরম পেশাগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কর্মজীবনের দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ্যাডিশনাল এসপি) পদেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ রাজনৈতিক পরিচয়ের দায়ে তাঁকে পদোন্নতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ এই বঞ্চনার মধ্যেও তিনি পেশাদারিত্ব ও সততা হারাননি। বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত এই কর্মকর্তা তাঁর নিষ্ঠার জন্য সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত।

নজমুল হোসেন দিদার ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্বের ভূমিকা পরবর্তীকালে কর্মজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেননি বরং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে গেছেন। সহকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, এমন একজন দক্ষ কর্মকর্তার দীর্ঘ সময় অবমূল্যায়িত থাকা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্যও এটি একটি বড় অপচয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ায় নজমুল হোসেন দিদার ও তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা ও বঞ্চনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদে পদায়ন এবং যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত সুবিচার।

পেশাদারিত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এই অভিজ্ঞ ও ত্যাগী কর্মকর্তার প্রতি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

মন্তব্য করুন