পশ্চিম তীরে দখল জোরদারে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন ইসরায়েলের

পশ্চিম তীরে দখল জোরদারে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরের ওপর দখল ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এসব সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও দখল করা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি ও আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নতুন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কয়েক দশক পুরোনো বিধিনিষেধ বাতিল করা, যা পশ্চিম তীরে ইহুদি ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনার সুযোগ সীমিত করত। এসব পরিবর্তনের ফলে বসতি সম্প্রসারণ আরও গতিশীল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি নেতারা।

এছাড়া কিছু ধর্মীয় স্থানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীন এলাকাগুলোতে পরিবেশগত ঝুঁকি, পানি সংক্রান্ত অপরাধ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ক্ষতির মতো বিষয়ে ইসরায়েলের তদারকি ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি কার্যত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার আরেকটি ধাপ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বৈঠকের কথা রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করেছে, তবে বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

পশ্চিম তীর এমন একটি অঞ্চল, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা করে। বর্তমানে এর বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যকর আছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের এক অবাধ্যতামূলক মতামতে বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা দ্রুত শেষ করা উচিত। তবে ইসরায়েল এই মতামত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন