দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের চেষ্টা: ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা আটক
অনলাইন ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র তিনজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আটককৃত নেতারা হলেন—সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস, জাতীয় মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা এবং দলের সক্রিয় সদস্য অজিঙ্কা শিন্ডে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেয়। এর পরিবর্তে রাজধানীতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান—এই তিনটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার শামিল বলে অভিহিত করেছে সিজেপি। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার সকালে দলটির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে যন্তর মন্তরে জড়ো হন এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয় এবং তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নেতাকর্মীদের আটকের তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, “যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না।”
এদিকে, যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল বন্ধ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা জয়রাম রমেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ।