গাজীপুরে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড় কারসাজি
রেজাউল করিম মজুমদার (গাজীপুর): গাজীপুরের জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বাজার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি থেকে সরাসরি বড় ডিলারশিপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে গ্যাস পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন ও বাজার একচেটিয়া করতে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়দেবপুরের মূল ডিলারশিপের ওপর প্রভাব বিস্তার করে পুরো সরবরাহ চেইন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোম্পানি থেকে সরাসরি আনা গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে না দিয়ে সিন্ডিকেটের বিশ্বস্ত কয়েকজন অনুসারী বিভিন্ন এলাকার দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
জয়দেবপুর, চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, টঙ্গী, মাওনা, জাজর বাইপাস, কড্ডা এবং বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কোম্পানি থেকে আসা বড় লরি বা ট্রাকগুলো সরাসরি কিছু নির্দিষ্ট গুদামে খালাস করা হয়। মূল ডিলারদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্যাস কিনতে গেলে তাদের ‘স্টক নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই সিন্ডিকেটের অধীনস্থ সাব-ডিলার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রতিটি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২৭০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক অভিযানের সময় মাঠপর্যায়ের কিছু খুচরা ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হলেও নেপথ্যে থাকা মূল গডফাদার ও ডিলারশিপের প্রকৃত সুবিধাভোগীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা বা অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা