যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাসের হাই-অ্যালার্ট

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাসের হাই-অ্যালার্ট

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ফেয়ারফোর্ড রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটির অতি সন্নিকটে সন্ত্রাসী হামলার চক্রান্তের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের মার্কিন মিশনের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়।

যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা বর্তমানে ‘তীব্র’ (Severe) পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে সতর্কবার্তায় বলা হয়, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় মার্কিন দূতাবাস পুরোপুরি অবগত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাস, মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কিত জনসমাবেশগুলো সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ অনুসরণ, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা, পরিবারকে অবস্থান জানানো এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ (STEP)-এ নাম নথিভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

ট্রাম্পের যৌথ অভিযানের দাবি:

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ সফল অভিযানে ওই বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরকসংক্রান্ত মারাত্মক অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইলিনয়ে একটি গলফ টুর্নামেন্টে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সন্দেহভাজনরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে ছিল। তারা কেবল ওই ঘাঁটিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক বন্দর ও স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ছক কষছিল।

ঘাঁটির গুরুত্ব ও স্থানীয় পরিস্থিতি:

ঘটনার পরপরই ফেয়ারফোর্ড এলাকার সাধারণ অধিবাসীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ, সন্ত্রাসবিরোধী সেল ও সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জনগণের নিরাপত্তাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।”

উল্লেখ্য, ফেয়ারফোর্ডের এই রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের 'গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড'-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এটি দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত সামরিক অপারেশন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় এবং অতীতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান সরবরাহে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

মন্তব্য করুন