উত্তর কোরিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও স্থায়ী শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সিউলের নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ণ
উত্তর কোরিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও স্থায়ী শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সিউলের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক: কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা হ্রাসে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। দুই দেশের মধ্যে টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ঐতিহাসিক কোরীয় মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে প্রেসিডেন্ট লি এই কূটনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ভাষণে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে এবং স্থায়ী শান্তি ফেরাতে দুই কোরিয়ার অবিলম্বে আলোচনায় বসা উচিত। বিশেষ করে ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধ, যা কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমে ছিল—সেই অসমাপ্ত যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সংলাপ জরুরি।

লি আরও উল্লেখ করেন, কার্যকর ও নিবিড় আলোচনার মধ্য দিয়েই কেবল উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রের বিস্তার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কোরীয় প্রণালীতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিউল আগাম ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিরোধমূলক সামরিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে বলে প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সিউল ধাপে ধাপে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির বদলে একটি শক্তিশালী স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট লির এই কূটনৈতিক উদ্যোগ মূলত গত বছর উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা মেনে নেওয়া এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতা।

তবে দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো গভীর অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ইতিমধ্যেই পিয়ংইয়ংয়ের ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক পুনর্মিলন নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার অস্তিত্বের জন্য ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সীমান্ত জুড়ে সামরিক প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট লির দেওয়া আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে সিউলের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়াকে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে দলটি।

অন্যদিকে, জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে লি জে মিয়ং অতীতের তিক্ত ইতিহাসকে সাহসের সঙ্গে মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী’ জাপানের সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে আগামী ৬০ বছরের জন্য একটি নতুন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অংশীদারিত্বের সূচনা হবে।

মন্তব্য করুন