টানা ৯ মাস সমুদ্রে বিমানবাহী রণতরী: মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে মার্কিন নৌসেনারা
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর অস্বাভাবিক ও দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বাড়ছে গভীর উদ্বেগ। মাসের পর মাস সমুদ্রের বুকে কাটানোয় একদিকে যেমন জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ সংকট মারাত্মক রূপ নিচ্ছে, অন্যদিকে নৌসেনাদের (নাবিক) মধ্যে চরম মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও আত্মহানির প্রবণতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনে অবস্থান করছে, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় নিজ ঘাঁটি থেকে দূরে থাকার রেকর্ড গড়ার পথে।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাদের পূর্বনির্ধারিত সাত মাস বা ২১০ দিনের মোতায়েনসীমার বাধ্যবাধকতা ভেঙে একের পর এক রণতরীকে বছরের পর বছর সমুদ্রে ভাসিয়ে রাখছে।
অমানবিক জীবনযাপন ও ক্ষোভ
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে রওনা হওয়া আব্রাহাম লিংকন ২০২৬ সালের মে মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও দেশে ফেরার সুযোগ পায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরে গুয়ামে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর নাবিকদের আর মাটিতে পা রাখার সুযোগ হয়নি।
জাহাজের এক নাবিক সিএনএন-কে জানান, "জাহাজের সৈনিকদের মনোবল একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। টয়লেট উপচে পানি বের হচ্ছে, ঠিকমতো গরম পানি পাওয়া যাচ্ছে না এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী ও খাবারের সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।" ওই নাবিক আরও দাবি করেন, সহকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার কথা বলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তবে নৌবাহিনী আত্মহত্যার হার বাড়ার খবর অস্বীকার করে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করার দাবি করেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও স্বজনদের অসন্তোষ
লিংকনের মোতায়েন আরও দীর্ঘ হওয়া নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এই মোতায়েন "এখনও যথেষ্ট দীর্ঘ হয়নি।" তার এমন মন্তব্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নৌসেনাদের স্বজনেরা। এক নাবিকের স্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের সামরিক নেতৃত্বের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল।
পুরোনো রেকর্ড ভাঙার মুখে লিংকন
এর আগে ২০২৫ সালে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড টানা ৩২৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে রেকর্ড তৈরি করেছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা আব্রাহাম লিংকন খুব শিগগিরই ফোর্ডের সেই রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত নতুন রণতরী যুক্ত না হওয়া এবং পুরোনো জাহাজের ক্রমাগত রক্ষণাবেক্ষণ বিলম্বের কারণেই এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন নৌবাহিনীতে দক্ষ জনবল ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
|