কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেবার দাম কমালো গুগল

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেবার দাম কমালো গুগল
তথ্যপ্রযুক্তি  ডেস্ক:বিশ্বজুড়ে মেগাট্রেন্ডে পরিণত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির বাণিজ্যিক বাজারে এবার এক নজিরবিহীন ও তীব্র প্রাইজ ওয়ার বা মূল্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জেনারেটিভ এআই খাতের অন্যতম শীর্ষ পরাশক্তি গুগল তাদের প্রিমিয়াম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাবস্ক্রিপশন সেবা ‘গুগল এআই প্লাস’-এর দাম বিশ্ববাজারে এক ধাক্কায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। সাধারণ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার এবং শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিধি আরও সাশ্রয়ী করতেই গুগলের এই নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সংস্কার।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিকম ও সায়েন্স ফিকশন’ এবং ‘সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, সাইবার সিকিউরিটি ও গ্যাজেট দুনিয়া ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে গুগলের সাবস্ক্রিপশন ফি কমানোর নেপথ্য কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রিমিয়াম সেবাগুলো নিয়ে বড় কোনো টেক জায়ান্টের মধ্যে সরাসরি কোনো মূল্য বা ছাড়ের প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। তবে গুগলের এই আকস্মিক ও বড় ধরণের মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত সামগ্রিক সিলিকন ভ্যালির বাণিজ্যিক চিত্রপট সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

গুগলের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারি মাসে প্রথম সাধারণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বাজারে আনা ‘গুগল এআই প্লাস’ সেবার মাসিক ফি ৭.৯৯ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ৪.৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দিতে এই নির্দিষ্ট প্যাকেজে থাকা গুগল ওয়ান ক্লাউড স্টোরেজের সুবিধা পূর্বের ২০০ গিগাবাইট (জিবি) থেকে সরাসরি দ্বিগুণ করে ৪০০ গিগাবাইট (জিবি) করা হয়েছে। গুগলের পণ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিকাশ কানসাল জানিয়েছেন, নতুন এই বর্ধিত স্টোরেজ সুবিধা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সকল সচল ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

উল্লেখ্য, গুগলের এই সাশ্রয়ী প্যাকেজটির আওতায় ব্যবহারকারীরা গুগলের সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘জেমিনি’ (Gemini)-এর প্রো সংস্করণের বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে টেক্সট টু ভিডিও বা এআই ভিডিও তৈরি, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নেওয়া, ডাটা অ্যানালাইসিস এবং কন্টেন্ট রাইটিং বা পেশাদার লেখালেখির উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারের গ্লোবাল বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিগুলো এখন আর কেবল কোনো বিশেষায়িত বা লাক্সারি প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এগুলো ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহারের একটি সাধারণ পণ্যে (কমোডিটি) পরিণত হচ্ছে। ফলে শীর্ষ টেক কোম্পানিগুলো এখন শুধু তাদের অ্যালগরিদম বা প্রযুক্তির ক্ষমতার আস্ফালন না দেখিয়ে, কীভাবে কম দাম এবং সহজ ইউজার ইন্টারফেসের মাধ্যমে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা যায়—সেই ইঁদুর দৌড়ে নেমেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুডওয়াটার ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা চি-হুয়া চিয়েন এই বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার এক অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির যেকোনো বড় ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রূপান্তরকালীন সময়ে (ট্রানজিশন পিরিয়ড) অবকাঠামো ও ক্লাউডভিত্তিক বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা যাওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বৈশ্বিক নিয়ম। ব্যবহারকারীরা সাধারণত কোনো এআই টুলের ব্যাকএন্ডে বা পেছনে কী ধরণের জটিল কোডিং চলছে, তা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান না। সাধারণ গ্রাহকের মূল চাওয়া হলো—সবচেয়ে কম খরচে ও সহজে কীভাবে সবচেয়ে সেরা ও দ্রুততম আউটপুট সেবা পাওয়া যায়।”

এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশে ওপেনএআই (OpenAI) কম মূল্যে স্থানীয় চ্যাটজিপিটি (ChatGPT Plus) সেবা চালু করেছিল এবং তার পরপরই গুগলও এশীয় বাজারে অনুরূপ সস্তা উদ্যোগ নেয়। এবার সেই একই সাশ্রয়ী ও আগ্রাসী বাণিজ্যিক কৌশল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক মার্কেট তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও নিয়ে আসলো গুগল। তবে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লদ (Claude)-এর মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীরা গুগলের এই ৪.৯৯ ডলারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সাবস্ক্রিপশন ফি কমায় কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন