৬০টি কেমোথেরাপি শেষে ওরাল থেরাপি চলছে ইলিয়াস কাঞ্চনের
বিনোদন প্রতিবেদক:বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী দিনগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, কোটি দর্শকের হৃদস্পন্দন এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন এখন জীবনের সবচেয়ে প্রতিকূল ও সংবেদনশীল সময় অতিবাহিত করছেন। ক্যামেরা, অ্যাকশন, লাইট আর সামাজিক আন্দোলনের চিরচেনা ব্যস্ত রাজপথ ছেড়ে তাঁর বর্তমান দিন-রাত কাটছে হাসপাতালের বিছানা, কেমোথেরাপির ফাইল আর লন্ডনের চার দেয়ালের বন্দি জীবনে।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টায় অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ঢালিউড, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, মুভি ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের চলমান চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
গত বছর মরণব্যাধি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাড়ি জমান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের আগস্ট মাসে লন্ডনের একটি নামী হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে একটি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা হয়। চিকিৎসকেরা সে সময় টিউমারের একটি বড় অংশ সফলভাবে কেটে বাদ দিতে পারলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকায় পুরো টিউমারটি অপসারণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে বায়োপসি ও অন্যান্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ব্রেন ক্যানসারের কথা পরিবারকে জানান।
অস্ত্রোপচার পরবর্তী চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চনকে অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ এক মেডিকেল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পর বর্তমানে তাঁর দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি চলছে। অভিনেতার পারিবারিক ও নিসচার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সপ্তাহে টানা ৫ দিন করে মোট ১২ সপ্তাহের একটি বিশেষ সাইকেলে চিকিৎসা চলাকালীন ইতিমধ্যে তাঁকে প্রায় ৬০টি উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি সফলভাবে শেষ করে তিনি এখন পরবর্তী তিন মাসের দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি গ্রহণ করছেন।
তবে এত দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার খুব একটা আশানুরূপ বা জাদুকরী উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানিয়েছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। আজ বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “কাঞ্চন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে কোনো বড় উন্নতি বা অবনতি নেই। বর্তমানে চিকিৎসকদের দেওয়া যে থেরাপি চলছে, তা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। এরপর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নতুন করে স্ক্যান করে দেখবেন এবং পরবর্তী করণীয় ও প্রেসক্রিপশন নির্ধারণ করবেন।”
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে লিটন এরশাদ আরও জানান, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলো যে স্থানে সীমাবদ্ধ ছিল, এখনো ঠিক সেখানেই রয়েছে। সবচেয়ে স্বস্তির এবং ইতিবাচক দিক হলো—ক্যানসারটি শরীরের অন্য কোনো নতুন অঙ্গে বা স্থানে থাবা বসায়নি। চিকিৎসকদের আশা, এই দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপির পুরো কোর্সটি শেষ হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও কিছুটা দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যেতে পারে।
তবে দীর্ঘ চিকিৎসার ধকল সামলাতে গিয়ে কাঞ্চনের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও তাঁর কথাবার্তায় স্পষ্ট জড়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সময় টানা কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন এবং পুরো বাক্যটি শেষ করতে পারছেন না। একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গুছিয়ে বলতেও তাঁকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। খাবারে তেমন কোনো অরুচি না থাকলেও নিয়মিত ও সঠিক সময়ে খাওয়ার যে পুরোনো অভ্যাস, তা আগের মতো সুশৃঙ্খল নেই।
একসময় চলচ্চিত্রের শুটিং, লাইট-ক্যামেরা আর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশ-বিদেশে ক্লান্তিহীন ছুটে চলা এই মানুষটির সময় এখন কাটছে মূলত ডাক্তারের ফলোআপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর মেয়ের বাড়ির আঙিনায়। স্বভাবতই এই আকস্মিক ও একঘেয়ে পরিবর্তন তাঁকে মাঝেমধ্যে মানসিকভাবে অস্থির করে তোলে। তবে এই কঠিনতম সময়ে মেয়ে, জামাতা এবং নাতি-নাতনিদের অফুরন্ত ভালোবাসা ও পারিবারিক আড্ডাই হয়ে উঠেছে তাঁর বেঁচে থাকার এবং লড়াই করার সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্প্রতি তাঁর হাসিমুখের কিছু পারিবারিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, বাস্তবতার নিরিখে তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার পথটি এখনো বেশ দীর্ঘ বলেই মনে করছেন তাঁর স্বজনেরা।
জান্নাত সকালবেলা
|