অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে বাধ্য হন মোহিনী
বিনোদন ডেস্ক:রুপালি পর্দার তারকাদের জীবন সাধারণ মানুষের কাছে সবসময়ই অত্যন্ত ঝলমলে ও আকর্ষণীয় মনে হয়। কিন্তু এই গ্ল্যামার আর খ্যাতির আড়ালে অনেক সময়ই নারী তারকাদের সহ্য করতে হয় অবর্ণনীয় মানসিক চাপ ও পেশাদারিত্বের নামে শোষণ। এবার তেমনই এক বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল অভিযোগ তুলে ধরেছেন নব্বই দশকের সাউথ ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দাপুটে অভিনেত্রী মোহিনী। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হাজির করে তিনি জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কীভাবে পরিচালকের অনড় অবস্থান এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মানসিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে একটি বোল্ড সুইমস্যুট ও অন্তরঙ্গ দৃশ্যে ক্যামেরা ফেস করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, মুভি ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অভিনেত্রী মোহিনীর সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাইয়ের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
সম্প্রতি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আভাল বিকাটান’-কে একটি দীর্ঘ ও একান্ত সাক্ষাৎকার দেন মোহিনী। সেখানে নিজের ব্যক্তিজীবন ও নব্বই দশকের কাজের পরিবেশ নিয়ে কথা বলার সময় ১৯৯৪ সালের ব্লকবাস্টার তামিল সিনেমা ‘কানমানি’ (Kanmani)-র প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। মোহিনী স্পষ্ট দাবি করেন, ছবিটির একটি রোমান্টিক সিকোয়েন্সের জন্য পরিচালক আর কে সেলভামানি একটি সুইমস্যুট বা সাঁতারের পোশাকের দৃশ্য পরিকল্পনা করেছিলেন, যা চিত্রনাট্যের ডিমান্ড হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই দৃশ্যটি নিয়ে শুরু থেকেই মোহিনীর তীব্র আপত্তি ও ব্যক্তিগত অস্বস্তি ছিল।
সেই ভীতিজনক ও অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে গিয়ে মোহিনী বলেন, “আমি দৃশ্যটির কথা জানার পর পরিচালকের সামনেই কেঁদে ফেলেছিলাম এবং ওই পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলাম। আমার আপত্তির কারণে প্রায় অর্ধেক দিন ছবিটির শুটিং সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। আমি নির্মাতাদের বারবার বোঝানোর আপ্রধান চেষ্টা করেছিলাম যে, আমি আসলে সাঁতার কাটতেই জানি না। তাছাড়া সেই সময়ে সেটে বা সুইমিং পুলে কোনো নারী সাঁতার প্রশিক্ষক (লেডি ট্রেইনার) ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত থাকা পুরুষ প্রশিক্ষকদের সামনে ওই ধরণের পোশাক পরে সাঁতার শেখা বা পোজ দেওয়ার বিষয়টি আমি কোনোভাবেই কল্পনা করতে পারছিলাম না।”
অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁর এত কান্না ও অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও প্রযোজনা সংস্থা ও পরিচালকের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর ক্রমাগত এক ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে এবং সিনেমার বিশাল আর্থিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে তিনি নতি স্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত ‘উডাল থাঝুভা’ শিরোনামের সেই গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্যে তিনি অংশ নেন। মোহিনীর ভাষায়, “পুরোটা সময় আমার মনে হয়েছিল, আমাকে জোর করেই ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আধা দিন কাজ করি এবং কমার্শিয়াল সাফল্যের জন্য তারা যা চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা-ই করে দিই।”
তবে প্রথমবার চাপের মুখে কাজটি করলেও পরবর্তীতে নিজের আত্মসম্মানের জায়গায় অনড় ছিলেন মোহিনী। তিনি জানান, একই সিনেমার পরবর্তী লটে যখন উটির মনোরম লোকেশনে আবারও একই ধরণের আরও কিছু অতিরিক্ত বোল্ড দৃশ্য ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তিনি সরাসরি ‘না’ বলে দেন। মোহিনী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নির্মাতাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁর আপত্তির কারণে শুটিং যদি বন্ধ হয়ে যায় বা বাতিল হয়, তবে সেই আর্থিক দায়ভার নির্মাতাদের, তাঁর নয়। কারণ, পূর্বের বারও তাঁর তীব্র অনিচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল।
অভিনেত্রীর আক্ষেপ, “আমার গোটা অভিনয় জীবনে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অতিরিক্ত গ্ল্যামারাস বা খোলামেলাভাবে অভিনয় করা একমাত্র সিনেমা ছিল ‘কানমানি’। মানুষের জীবনে কখনো কখনো এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আসে যা আপনি মন থেকে চান না, কিন্তু পারিপার্শ্বিকতার কারণে করতে হয়। এই দৃশ্যটিও আমার জীবনের তেমনই একটি কালো অধ্যায় ছিল।” মোহিনীর আক্ষেপ, ছবিটিতে তাঁর মূল চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত দুর্দান্ত এবং অভিনয় করার মতো প্রচুর জায়গা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে স্রেফ ওই বিতর্কিত ও সেনসেশনাল সুইমস্যুট দৃশ্যের অতি-আলোচনার কারণে তাঁর সেই দুর্দান্ত অভিনয়টি দর্শকদের কাছে প্রাপ্য স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পায়নি।
উল্লেখ্য, মোহিনী কেবল দক্ষিণ ভারতের তামিল, তেলুগু বা মালয়ালম ছবিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ১৯৯১ সালে বিখ্যাত বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের জনপ্রিয় হিন্দি ছবি ‘ড্যান্সার’ (Dancer)-এ প্রধান নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এই মোহিনী। এরপর তিনি শিবাজি গানেসান, চিরঞ্জীবি, মোহনলাল, মামুট্টি, নন্দামুরি বালকৃষ্ণ, বিক্রম, সুরেশ গোপিসহ ভারতের প্রথম সারির সব মেগাস্টারদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন। তাঁর অভিনীত ‘আদিত্য ৩৬ญ’, ‘হিটলার’, ‘বেশাম’ সিনেমাগুলো আজও ক্লাসিকের মর্যাদা পায়। সবশেষ ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মালয়ালম রাজনৈতিক থ্রিলার ‘কালেক্টর’-এ অভিনয়ের পর তিনি রূপালি পর্দা থেকে চিরতরে বিদায় নেন এবং পরবর্তীতে ধর্ম ও আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেন। তবে এত বছর পর তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে ‘কানমানি’র পরিচালক আর কে সেলভামানি বা সংশ্লিষ্ট প্রযোজকের পক্ষ থেকে tablecloth এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জান্নাত সকালবেলা
|