দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
রুপম চাকমা, দীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দীঘিনালা জোনের (৪-ইবি) উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা, খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১০ জুন) সকালে দীঘিনালা জোন সদর প্রাঙ্গণে এই মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সকালে জোন সদরে আয়োজিত বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি-বাঙালি রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এ সময় চক্ষু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন ও সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন দীঘিনালা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাব-জোন কমান্ডার মেজর তৌকির আহমেদ, এসইউপি, পিএসসি এবং জোন অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল আজমী।
অনুষ্ঠানে ছোট মেরুং বাজার দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা এবং দারুল উলুম শাহিদা সুমাইয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের জন্য চাল, আটা, চিনি, তেল ও ডালসহ বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত মোঃ বাচ্চু মিয়া এবং ক্রিস ত্রিপুরার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নগদ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। একই সাথে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অন্তনিতা চাকমা, বাকী রাম ত্রিপুরা, মোছাঃ জাহেরা খাতুন, গৌরিকা বালা চাকমা, ফুলেকা চাকমা এবং মার্জিনা বেগমের বসতঘর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন অধিনায়ক লে: কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পাহাড়ি-বাঙালি সব মানুষের পাশে থাকবে। সেনাবাহিনী জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। যেকোনো দুর্যোগ, সংকট কিংবা মানবিক প্রয়োজনে আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এআইএল/সকালবেলা
|