ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকআপ টুল ব্যবহারের নিয়ম ও সুবিধা
আজ রবিবার (৭ জুন) অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘তথ্য প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লাইফস্টাইল’ এবং ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং, ডেটা প্রাইভেসি আইন, হ্যাকিং প্রতিরোধ ও মেটা সেটিংস মনিটরিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকআপ টুলের প্রধান ৫টি ফিচার এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার সহজ উপায় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
প্রাইভেসি চেকআপ টুলের অন্যতম প্রধান এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ফিচার হলো ‘হাউ ক্যান সি হোয়াট ইউ শেয়ার’। অনেক সময় অসচেতনতার কারণে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, সঠিক জন্মতারিখ, বর্তমান কর্মস্থল কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো তথ্যগুলো পাবলিক বা উন্মুক্ত হয়ে থাকে, যা দেখে হ্যাকাররা সহজেই ক্লোন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিতে পারবেন যে আপনার এই তথ্যগুলো কারা দেখতে পাবে (যেমন- পাবলিক, ফ্রেন্ডস বা অনলি মি)। এছাড়া আপনার ভবিষ্যতে প্রকাশিতব্য পোস্টের দর্শক (Audience) নির্ধারণ করা, পুরোনো সব পোস্টের গোপনীয়তা এক ক্লিকে সীমিত করা এবং আপনার ব্লক করা ব্যক্তিদের তালিকা নতুন করে পর্যালোচনা করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে এই সেকশনে।
অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (Account Security)
অ্যাকাউন্টের মূল প্রাচীরকে শক্তিশালী করতে এই ফিচারের জুড়ি নেই। এখানে প্রবেশ করে ব্যবহারকারী তাঁর পুরোনো বা দুর্বল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে একটি দীর্ঘ ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের দিকনির্দেশনা পান। পাশাপাশি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (2FA) চালু করার অপশন রয়েছে এখানেই। এটি চালু থাকলে আপনার পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও আপনার ফোনে আসা ওটিপি (OTP) কোড ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া কোনো অচেনা ডিভাইস, নতুন ব্রাউজার বা অপরিচিত অবস্থান থেকে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করার চেষ্টা করা হলে সাথে সাথে আপনার ফোনে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট নোটিফিকেশন চলে আসার ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। ফলে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
আপনাকে খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ (How People Can Find You On Facebook):
ফেসবুকের আরেকটি দরকারি ও স্বস্তিদায়ক অংশ হলো অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের উপস্থিতি ও স্প্যামিং রোধ করা। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন যে ফেসবুকের বিশাল দুনিয়ায় কে বা কারা তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট (Friend Request) পাঠাতে পারবে (যেমন- এভরিওয়ান নাকি ফ্রেন্ডস অব ফ্রেন্ডস)। একই সাথে, আপনার ফোন নম্বর কিংবা ইমেইল ঠিকানা লিখে সার্চ বক্সে সার্চ করে কে আপনাকে খুঁজে পাবে, তা-ও লক করে দেওয়া সম্ভব। এতে করে বিভিন্ন ফিশিং লিংক বা অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যাকিংয়ের চেষ্টা ও স্প্যাম মেসেজের পরিমাণ অনেকাংশে কমে যায়।
থার্ড-পার্টি অ্যাপের ডেটা সেটিংস (Your Data Setting on Facebook):
আমরা সাধারণত বিভিন্ন গেম, কুইজ ওয়েবসাইট কিংবা থার্ড-পার্টি অ্যাপে দ্রুত লগইন করার জন্য ‘লগইন উইথ ফেসবুক’ (Login with Facebook) অপশনটি ব্যবহার করে থাকি। এতে করে সেইসব অজানা অ্যাপের কাছে আপনার ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার, নাম ও ইমেইলের অ্যাক্সেস চলে যায়। এই ‘ইয়োর ডাটা সেটিং’ ফিচারের মাধ্যমে আপনি এক নজরে দেখতে পাবেন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোন কোন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট লগইন করা আছে। বর্তমান সময়ে যেগুলোর আর কোনো প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ডেটা অ্যাক্সেস বা পারমিশন আপনি মুহূর্তেই বাতিল (Revoke) করে দিতে পারেন। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
বিজ্ঞাপন পছন্দ ও ট্র্যাকিং নিয়ন্ত্রণ (Ad Preferences):
ফেসবুক মূলত ব্যবহারকারীদের পছন্দ, সার্চ হিস্ট্রি ও লিংকের ওপর ভিত্তি করে নিউজফিডে বিভিন্ন কোম্পানির স্পনসরড বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। এই প্রাইভেসি চেকআপ টুলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ফেসবুক আপনার কোন কোন ব্যক্তিগত বা ডেমোগ্রাফিক তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে শেয়ার করছে বা নিজে ব্যবহার করছে। আপনি চাইলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী সেই সেটিংস পরিবর্তন করতে পারেন এবং কোন ক্যাটাগরির বিজ্ঞাপন আপনি দেখতে চান বা একদমই দেখতে চান না, তা সুনির্দিষ্ট করে দিতে পারেন।
ফেসবুকের এই প্রাইভেসি চেকআপ টুলটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এর ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস। অত্যন্ত সহজ ধাপে ধাপে এবং গ্রাফিক্যাল নির্দেশনার মাধ্যমে এটি ব্যবহারকারীকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংসের কাজ বুঝিয়ে দেয়। তাই সাইবার দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে ও নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সুরক্ষিত রাখতে প্রতি মাসে অন্তত একবার এই টুলটি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট রিভিউ করা অত্যন্ত জরুরি।
জান্নাত সকালবেলা
|