প্রতিনিয়ত এসব দেখে ট্রমাটাইজড লাগে : বুবলী

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ণ
প্রতিনিয়ত এসব দেখে  ট্রমাটাইজড লাগে : বুবলী

বিনোদন প্রতিবেদক : রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত পৈশাচিক ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এই মুহূর্তে পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সমাজের প্রতিটি স্তরের সচেতন নাগরিক যখন এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন, তখন সেই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন দেশের শোবিজ ও বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের পর এবার এই নির্মম ও পাশবিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর মানসিক বিপর্যয় প্রকাশ করেছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৩টা ২১ মিনিটে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে চিত্রনায়িকা বুবলীর এই মানসিক ট্রমা ও প্রতিবাদের বিষয়টি সামনে এসেছে।

দেশের মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক) এর সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে ১১৮ জন শিশু নির্মমভাবে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর বাইরে আরও ৪৬ জন শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই সময়ের মধ্যে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ১৪ জন শিশুকে এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ঘাতকেরা হত্যা করেছে আরও ৩ জন নিষ্পাপ শিশুকে। পাশবিক এই নির্যাতনের মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ২ জন অবুজ শিশু।

সর্বশেষ রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে হত্যার ঘটনাটি এই তালিকায় যুক্ত হয়ে পুরো দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই নারকীয় ঘটনা দেখে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন শবনম বুবলী।

নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, “শিশুরাই নাকি একটি দেশের আগামীর ভবিষ্যৎ, অথচ আমাদের এই দেশে ভবিষ্যতের বর্তমান অবস্থা দেখুন! যেখানে এই নিষ্পাপ পবিত্র ফুলগুলোর হাসিখুশি রঙিন ছবি দেখার কথা ছিল সবার, যেখানে তাদের সুন্দর ও নিরাপদ একটা শৈশব হওয়ার কথা ছিল, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা-মায়েরা কত শত সুন্দর স্বপ্ন সাজানোর কথা ছিল এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল— সেখানে আজ উল্টো সবাইকে এই বাচ্চাগুলোর সাদা-কালো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাদের নৃশংস মৃত্যুর করুণ বিচার চাইতে হচ্ছে! এর চেয়ে বড় কালো বিভীষিকাময় শৈশবের স্মৃতি আর বাবা-মায়ের বুকফাটা কান্না আর কী হতে পারে?”

দেশের এই সামগ্রিক অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ পরিস্থিতি বুবলীকে মানসিকভাবে কতটা আঘাত করেছে তা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “প্রতিনিয়ত চারপাশে এসব পৈশাচিক ঘটনা দেখে আজকাল নিজেকে বড্ড ট্রমাটাইজড লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে এখন বড্ড আনসোশ্যাল ও বিষাক্ত মনে হয়, এসব দেখতেই আর মন চায় না। আর কতদিন এভাবে চলবে? হয়তো একটা ঘটনার পর আমরা সবাই কিছুদিন তীব্র প্রতিবাদ জানাব, তারপর একসময় নতুন কোনো ইস্যুতে পুরোটাই ভুলে যাব। কিন্তু সন্তান হারানো সেই হতভাগা বাবা-মাগুলো তো সারা জীবন এই অমানসিক তীব্র কষ্ট আর ট্রমা বয়ে বেড়ায়। পৃথিবীর কোনো সান্ত্বনা বা ক্ষতিপূরণ কি তাদের এই শূন্যতাকে পূরণ করতে পারে?”

দেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার বিচার পেতেও ভুক্তভোগী বাবা-মাকে যেভাবে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়, তা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বুবলী বলেন, “আমাদের সমাজে একজন নিরপরাধ বাবা-মাকে এক কাঁদে সন্তান হারানোর তীব্র শোক নিয়ে এবং আরেক কাঁদে দিনের পর দিন বিচারের আশায় ধুঁকে ধুঁকে কাঁদতে হয়। অথচ এই স্বাধীন দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে অপরাধীদের এসব নৃশংসতার দ্রুত, দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার পাওয়া তো তাদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।”

শিশু রামিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শবনম বুবলীর দেওয়া এই প্রতিবাদী পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বুবলীর এই সংবেদনশীল ভাবনার সাথে শতভাগ সহমত পোষণ করে হাজার হাজার ভক্ত মন্তব্য করছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুততম সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ফাঁসি বা কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন