ফেসবুকে হা-হা রিঅ্যাক্ট: ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিহত

প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে হা-হা রিঅ্যাক্ট: ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিহত

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টদেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ছৈয়দা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। 

শনিবার (১৬ মে) রাত আটটার দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছৈয়দা বেগম স্থানীয় বাসিন্দা ছব্বির আহমেদের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে টাইপালং মাদরাসার দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরে শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইউনুস নামের এক যুবক ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ইউনুসকে আটকে মারধর শুরু করলে তাঁর বন্ধু এনজিও কর্মী এস এম ইমরান তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় ইমরানকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা বেগম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। মারধরের একপর্যায়ে ছৈয়দা বেগম গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নিহতের সন্তানরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসানসহ ১০-১২ জনের নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তি কক্সবাজার জেলার মুখপাত্র জিনিয়া সারমিন রিয়া ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন, এস এম ইমরান জুলাই বিপ্লবের একজন যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ‘ছাত্রলীগের দোসর’ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন