নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অদূর ভবিষ্যতে পুনর্গঠন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নেতৃত্ব শূন্যতা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "বৈঠকে কোনো বিশেষ পদ বা ব্যক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তবে দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অদূর ভবিষ্যতে পুনর্গঠন করা যে জরুরি, সেই বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।"
টিআইবি প্রধান জানান, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে টিআইবি’র পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে আমাদের পরামর্শগুলো শুনেছেন এবং বলেছেন যে তিনি প্রায় শতভাগ একমত। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী এগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।"
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ২০২৮ সালের ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সম্মেলন’ (International Anti-Corruption Conference) বাংলাদেশে আয়োজন করা। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "প্রতি দুই বছর অন্তর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ায় এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি দেশে এটি হয়েছে। আমরা মনে করি ২০২৮ সালের সম্মেলনটি বাংলাদেশে আয়োজনের উপযুক্ত সময় এখন। প্রধানমন্ত্রী এতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদের চূড়ান্ত সম্মতি পেলে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।"
টিআইবি প্রধান মনে করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বার্তাই যাবে যে, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেবল অঙ্গীকারবদ্ধই নয়, বরং তা বাস্তবায়নেও অত্যন্ত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।