শর্তে রাজি না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে: নূরুল হক নূর

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ণ
শর্তে রাজি না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে: নূরুল হক নূর

নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তে রাজি না হলে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর। সিন্ডিকেট এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অসম প্রতিযোগিতার কারণেই এই বাজারটি বারবার হোঁচট খাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বুধবার (৬ মে ২০২৬) অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত এক অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বলেন, “মালয়েশিয়ার বাজার ২০০৮ সালে প্রথম বন্ধ হয়। এরপর ২০১৬ সালে চালু হয়ে ১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২-এ চালু হলে ২৪-এ পুনরায় বন্ধ হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অনেক বৈঠক ও সফর হলেও বাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি।”

বাজার বন্ধ থাকার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া শুরুতে ১০টি কঠিন শর্ত দিয়েছিল। ওই শর্তগুলো মানলে বাংলাদেশে মাত্র ৫ থেকে ৭টি এজেন্সির বেশি কেউ কর্মী পাঠাতে পারতো না। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ৩টি শর্ত মওকুফ করা হয়েছে এবং ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবুও বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কেট এখনও বন্ধ।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যদি সিন্ডিকেট কিংবা তথাকথিত ‘ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম’—যে নামেই ডাকুন না কেন, তাদের বিতর্কিত শর্তে রাজি না হই, তবে মার্কেট যেভাবে বন্ধ আছে সেভাবেই থাকবে। আমরা সাধারণ কর্মীদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো অসম চুক্তিতে যাব না।”

নূরুল হক নূর জানান, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন কর্মী পাঠানোর দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার চায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে বিপুল সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কম খরচে কর্মী পাঠাতে, যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বাজারটি কুক্ষিগত করতে না পারে।

সম্মেলনে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, ওকাপের প্রতিনিধি এবং অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার দাবি জানান।

মন্তব্য করুন