নিজস্ব প্রতিবেদক: হাওর অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষিমন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান। ক্ষতির গভীরতা বিবেচনা করে প্রতিটি কৃষক পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আরও বেশি অংকের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই সহায়তা কার্যক্রম আগামী তিন মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
ডিসি সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা আলুর বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আলুর বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে এই সংকট কাটানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে।" তিনি কৃষকদের কৃষি কার্ড ব্যবহারের ওপর জোর দেন যাতে চাষাবাদ পরিকল্পনা আরও সুশৃঙ্খল হয়।
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানির পশুর সরবরাহ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে পশুর কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে বাজারে পশুর খুব একটা উদ্বৃত্তও নেই। ফলে বাজারে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, এবার সীমান্ত দিয়ে বাইরে থেকে নতুন করে গরু আসার সম্ভাবনা নেই; দেশীয় খামারিদের পশুই বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
স্থানীয় পর্যায়ে কৃষিপণ্য বিপণন তদারকি এবং কৃষকদের সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে দুর্যোগ পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম যেন দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।