নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সাভারে ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝিকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৩ মে ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সপ্তম আদালতের বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আব্দুল মান্নান এবং মো. চান মিয়া ওরফে মারুফ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আব্দুল মান্নান আদালতে উপস্থিত থাকলেও চান মিয়া পলাতক ছিলেন। আদালত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। উপস্থিত আসামি মান্নানকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে সাভারের আমিনবাজার এলাকার নৌকার মাঝি মর্তুজা আলী ডিজেল কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ৩০ জুলাই স্থানীয় শ্যামলাসি হাওরের কচুরিপানার মধ্য থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের চাচা মো. ইব্রাহিম বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে যে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আসামি মান্নান ও চান মিয়া মর্তুজার নৌকা ভাড়া করে নদীতে নিয়ে যায়। মাঝপথে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পানিতে ফেলে দিয়ে তারা নৌকাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত নৌকাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
২০০৬ সালের ২৮ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুস সাত্তার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
নিহতের পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।