৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা: প্রধানমন্ত্রী

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ণ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি ও লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা কাঁধে নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান বাস্তবতাকে ‘অত্যন্ত প্রতিকূল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন দেশের অর্থনীতি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায়। জনপ্রশাসন ছিল দুর্বল ও বিভাজিত, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল চরম অবনতিশীল। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিগত শাসনামলে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশকে পরিকল্পিতভাবে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বেড়েছে কয়েকগুণ। এই অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ লক্ষ্যেই আমরা কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। প্রথমবারের মতো ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সমাজের প্রকৃত দুস্থ ও অভাবী মানুষকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে হবে। কোনো দুর্নীতি বা বৈষম্য এখানে বরদাশত করা হবে না।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সরকার চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যেন টেকসই হয় সেই সংস্কারই আমাদের লক্ষ্য। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যসেশনের উদ্বোধন করেন। ৪ দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন