রেকর্ড ভোটদানে পরিবর্তনের আভাস না কি মমতার হ্যাটট্রিক?

ইসমাঈল আযহার
প্রকাশ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
রেকর্ড ভোটদানে পরিবর্তনের আভাস না কি মমতার হ্যাটট্রিক?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবারের ভোটদানের হার এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯১ শতাংশের বেশি ভোটদান রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল, যা সর্বশেষ ১৯৭১ সালে দেখা গিয়েছিল। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময়েও ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ। এই বিপুল ভোটদান কি রাজ্যে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে, না কি তৃণমূল কংগ্রেসই ফের ক্ষমতায় ফিরছে—তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ৮৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ার ঘটনাটিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতার পালাবদল ঘটাতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে জোট সরকারের জল্পনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা এবং ভোটের দিন বুথে বুথে তার উপস্থিতি বিরোধীদের কাছে চাপের ইঙ্গিত হিসেবে মনে হচ্ছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথফেরত সমীক্ষাকে নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, তৃণমূল ২২৬ থেকে ২৩০টি আসন পেয়ে জয়ী হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি অর্থের প্রভাবে সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। এমনকি ইভিএম কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসী যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষই তাদের ক্ষমতায় আনবে।

আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরির নির্বাচনের ফলাফলও প্রকাশিত হবে। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন না কি অভিনেতা বিজয় থলপতির দল চমক দেখাবে—তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। তবে সবার নজর এখন বাংলার দিকে; ৪ মে জানা যাবে বাংলা কি নতুন পথে হাঁটবে না কি পুরনো আস্থাই বজায় রাখবে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন