হাজারো বাংলাদেশি ভক্তের সাথে খেলা দেখলেন সুইস কূটনীতিকেরা

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ণ
হাজারো বাংলাদেশি ভক্তের সাথে খেলা দেখলেন সুইস কূটনীতিকেরা

ক্রীড়া ডেস্ক: মাঠের লড়াকু ফুটবল যুদ্ধে পরাজয় ঘটলেও, মাঠের বাইরের কূটনৈতিক সৌজন্য আর ফুটবলীয় সম্প্রীতিতে অনন্য এক নজির স্থাপন করল ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাস। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর, বিজয়ী আলবিসেলেস্তেদের অফিশিয়াল অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইস দূতাবাস।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ ‘পাবলিক ভিউয়িং’ (বড় পর্দায় খেলা দেখা) অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হাজারো বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে বসে এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি উপভোগ করেন।

ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের বিদায় এবং আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে উত্তরণের পর সুইস দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। বার্তায় তারা উল্লেখ করেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও তুমুল লড়াই কেবল মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। মাঠের বাইরে ফুটবল আসলে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করে।” নিজেদের দেশ হারলেও আর্জেন্টিনার দারুণ ফুটবলকে খোলা মনে বাহবা দেয় দূতাবাস।

টুইটার ও অফিশিয়াল মাধ্যমে দেওয়া এই বার্তায় বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম ও দীর্ঘদিনের ফুটবল আবেগের ভূয়সী প্রশংসা করে সুইস দূতাবাস এক চমকপ্রদ মন্তব্য করে। তারা বলে, “একটি অনস্বীকার্য ও মধুর বাস্তবতা হলো— বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকের সংখ্যা স্বয়ং আর্জেন্টিনার মূল জনসংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি! এই বৈশ্বিক বাস্তবতা বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে বাংলাদেশের আবেগ, ভালোবাসা ও ফুটবল সম্পৃক্ততার একটি অনন্য এবং অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।”

দূতাবাস আরও যোগ করে যে, রবিবারের এই জমকালো যৌথ আয়োজন আবারও বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে যে— ফুটবল এমন এক বৈশ্বিক ভাষা যা কোনো নির্দিষ্ট ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করে পুরো পৃথিবীর মানুষকে এক ছাদের নিচে একত্রিত করতে সক্ষম।

বিশ্বকাপের এই মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বড় পর্দায় যৌথভাবে দেখার চমৎকার পরিবেশ ও আয়োজন করায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (DIU) বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সুইস দূতাবাস। তারা উল্লেখ করেছে, এই ধরনের ভিন্নধর্মী ও উৎসবমুখর উদ্যোগ বাংলাদেশ এবং বিদেশী কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে জনসম্পৃক্ততা (Public Diplomacy) বাড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মধুর করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য করুন