বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে মেসি-এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ক্রীড়া প্রতিবেদক: ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে। ফরাসিদের এই মহাকাব্যিক জয়ে মূল নায়ক ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে। মরক্কোকে বিদায় করার ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে কিলিয়ান এমবাপে ও তাঁর দল বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে। একই সাথে এই ম্যাচের পরিসংখ্যানের আলোয় বিশ্ব ফুটবলের ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসির সাথে এমবাপের এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
মরক্কো বনাম ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আলোকে দুই মহাতারকার খুঁটিনাটি ও চমকপ্রদ পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
২: ৬০ বছরের ইতিহাসে বিরল ঘটনা
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে একই ম্যাচে গোল করা, সতীর্থকে দিয়ে গোল করানো (অ্যাসিস্ট) এবং আবার একই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করার মতো অবিশ্বাস্য ও বিরল ঘটনা সর্বশেষ ৬০ বছরে ঘটেছে মাত্র চারবার। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেই গত মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এই অদ্ভুত ও বিরল রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। মাঠের খেলায় চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই এই কীর্তি গড়েন তারা।
৩: গোল ও অ্যাসিস্টের রাজত্বে এমবাপে-মেসি
বিশ্বকাপের মঞ্চে একই ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট— দুই বিভাগেই অবদান রাখা একজন ফুটবলারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। মরক্কোর বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ে কিলিয়ান এমবাপে তাঁর ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বশেষ ৬০ বছরের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, এমবাপের চেয়ে বেশি ম্যাচে (সর্বমোট ৫ বার) এই কীর্তি গড়ার একক রেকর্ড রয়েছে শুধুমাত্র আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ৩ বার নিয়ে মেসির ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৩: ফ্রান্সের টানা সেমিফাইনালের হ্যাটট্রিক
মরক্কোকে হারিয়ে এই নিয়ে টানা তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপের (২০১৮ রাশিয়া, ২০২২ কাতার ও ২০২৬ বর্তমান আসর) সেমিফাইনালে পৌঁছানোর গৌরব অর্জন করল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে এই অনন্য হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়ল ফরাসিরা। এর আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা তিনটি বা তার বেশি সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়েছিল কেবল জার্মানি (২০০২ থেকে ২০১৪ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০) এবং লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল (১৯৯৪ থেকে ২০০২)। এবার সেই এলিট ক্লাবে সগৌরবে প্রবেশ করল ফ্রান্স।
|