অ্যালকোহল প্রমোট করেন না এমবাপ্পে; বিশ্বকাপে অনন্য নজির

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ
অ্যালকোহল প্রমোট করেন না এমবাপ্পে; বিশ্বকাপে অনন্য নজির

ক্রীড়া ডেস্ক: তিনি শুধু আধুনিক ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলমেশিনই নন, বরং মাঠের বাইরের কঠোর কিছু জীবনবোধ, নীতি ও আদর্শের কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ফ্রান্স ফুটবল দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। একজন বিশ্বখ্যাত বৈশ্বিক তারকা হওয়া সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার লোভনীয় প্রস্তাব পায়ে ঠেলে তিনি কখনোই অ্যালকোহল (মদ), ক্ষতিকর ফাস্ট ফুড কিংবা জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির প্রমোশন বা ব্র্যান্ডিং করেন না। নিজের এই কড়া নীতির কারণে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা কিংবা স্পনসরদের রোষানলে পড়া বা জরিমানা গোনা— কোনো কিছুতেই পিছু হটেন না এই ফরাসি তারকা।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের হাই-ভোল্টেজ জয়ের ম্যাচেও নিজের এই মহৎ চরিত্রের এক অনন্য প্রতিফলন দেখালেন তিনি।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিশ্বাস, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ (ম্যাচসেরা) পুরস্কারের ক্ষেত্রে এক বিশেষ ও যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে ফিফা। সাধারণত বিশ্বকাপের ম্যাচসেরার পুরস্কারে অফিসিয়াল স্পনসর হিসেবে মার্কিন বিখ্যাত বিয়ার ব্র্যান্ড ‘মিশেলব আল্ট্রা’র (Michelob Ultra) লোগো ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহৃত হয়। তবে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ফিফা এবার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও লোগোবিহীন একটি বিশেষ ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ডিজাইন এবং ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ব্র্যান্ডিংযুক্ত ট্রফির ব্যবস্থা রেখেছে।

এমবাপ্পে নিজে খ্রিষ্টান ধর্মানুসারী হলেও, কোনো ধরনের অ্যালকোহল বা বিয়ার ব্র্যান্ডকে প্রমোট না করার ব্যক্তিগত নৈতিকতার খাতিরে ফিফার সেই স্পেশাল ক্যাটাগরির নিরপেক্ষ পুরস্কারটিই সাদরে গ্রহণ করেন। ফলে অবধারিতভাবেই ম্যাচ শেষে তাঁর ট্রফিতে বা ব্যাকড্রপ মঞ্চে অ্যালকোহলের কোনো ব্র্যান্ডিং বা লোগো দৃশ্যমান ছিল না।

অবশ্য এমবাপ্পের এই অবাধ্য ও নীতিবান রূপ ফুটবলবিশ্ব নতুন দেখছে না। বিগত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তিনি এই একই ধারা বজায় রেখেছিলেন। সেবার তিনি যতবারই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন, ট্রফি হাতে অফিশিয়াল ছবি তোলার সময় সচেতনভাবেই স্পনসর বিয়ার কোম্পানির লোগোটি নিজের হাতের আড়ালে লুকিয়ে রাখতেন। যার কারণে ফিফার পক্ষ থেকে তাঁকে মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছিল, যা তিনি হাসিমুখে মেনে নেন। মূলত তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেকে একজন আদর্শ রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতেই এমবাপ্পে নিজের ইমেজ রাইটস (Image Rights) ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপর সম্পূর্ণ একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তিনি সবসময় স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং যুবসমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে— কেবল এমন ব্র্যান্ডগুলোর সাথেই চুক্তিবদ্ধ হন।

বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচে ফ্রান্সের ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এক দর্শনীয় গোল করে ফ্রান্সকে প্রথমে এগিয়ে দেন তিনি। এর ঠিক ৬ মিনিট পর দলের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক তারকা উসমান দেম্বেলে।

মরক্কোকে হারিয়ে ফরাসিরা যখন বীরদর্পে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল, ততক্ষণে বিশ্বকাপের গৌরবময় ইতিহাসে নিজের ব্যক্তিগত ২০তম গোলটি করার মহাকীর্তি গড়ে ফেলেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবধারিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন এই ফুটবল জাদুকর।

মন্তব্য করুন