বন্যায় প্লাবিত পাঁচ জেলা, ঝুঁকির তালিকায় আরও পাঁচ
অনলাইন ডেস্ক : সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের অববাহিকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ পানি সমতল পরিস্থিতি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই পরিস্থিতিতে ফেনী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলাও নতুন করে বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার, সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ দুপুরে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, আগামী কয়েক দিনে দেশের ভেতরে এবং সীমান্তে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি প্রধান নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত বাড়তে পারে। যার ফলে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর কিছু কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আশার কথা হলো, উভয় নদীর পানিই এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে এই অববাহিকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একইভাবে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায়ও আগামী পাঁচ দিনে মাঝারি-ভারী থেকে তীব্র ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্ট বর্তমানে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী দুই দিনে এই অববাহিকার পানি নতুন করে বাড়তে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টও বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিনে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা ও তার আশপাশের তুরাগ, টঙ্গীখাল, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা ও বালু নদীর পানি এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার বেশ নিচে রয়েছে এবং এর প্রবাহ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও দ্রুত গতিতে বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
|