জামায়াত সভাপতির বাবার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বৃদ্ধ মো. নওশের আলী বিশ্বাস ওরফে লস্কর বিশ্বাস (৬৫) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধোয়াইল গ্রামের মৃত যদন বিশ্বাসের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত লস্কর বিশ্বাস কৌশলে তাঁর হাত ধরে ঘরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে তাঁর মা সেখানে গিয়ে দ্রুত শিশুকে উদ্ধার করেন। শিশুটির পরিবারের দাবি, ঘটনার পরপরই লস্কর বিশ্বাস মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি লোকলজ্জার ভয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ১০টার দিকে শিশুটির বাবা বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার ন্যায্য বিচার দাবি করেন। এ সময় অভিযুক্তের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গণপিটুনির ভয়ে অভিযুক্ত লস্কর বিশ্বাস সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও এ ধরণের অপরাধ ঘটিয়ে ক্ষমতা খাটিয়ে ধামাচাপা দিয়েছিলেন।
শিশুটির বাবা বলেন, “অভিযুক্তের ছেলে হুসাইন আহমেদ কাবুল সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক চাপে আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কে আছি। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।” তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্তের ছেলে হুসাইন আহমেদ কাবুল বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ষড়যন্ত্র করে তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবার পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|