জার্মানিকে হারানোর পর প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্বকাপের মঞ্চে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে স্তব্ধ করে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। আর এই ঐতিহাসিক, অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় জয়কে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং দেশবাসীকে উদযাপনের সুযোগ দিতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই বিশেষ ছুটির আওতায় থাকবে।
এক বিশেষ পুশ বার্তায় স্থানীয় সময় সোমবার রাতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান প্যারাগুয়ের দেশটির প্রেসিডেন্ট। পরবর্তীতে জারি করা সরকারি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ফুটবল দলের এই অভাবনীয়, রোমাঞ্চকর ও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য যেন পুরো দেশবাসী একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদযাপন করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মাঠের লড়াইয়ে এদিন স্নায়ুযুদ্ধের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্যারাগুয়েকে। নকআউট পর্বের তথা রাউন্ড অব থার্টি টুর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় ছিল। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্য পরীক্ষায়। সেখানে তীব্র স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ৪-৩ ব্যবধানে শক্তিশালী জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয় প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকারে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরপরই আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী এই দেশের রাজপথে নেমে আসে লাখো ফুটবলপ্রেমী মানুষ। রাজধানী আসুন্সিওনসহ দেশজুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস ও উৎসবের আমেজ।
অভিজ্ঞ কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে প্যারাগুয়ে। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল পরাশক্তি জার্মানিকে বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চ থেকে ছিটকে দেওয়াটা ছিল চলতি টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও রোমাঞ্চকর চমক। ফুটবলবোদ্ধারা এই জয়কে প্যারাগুয়ের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
এদিকে প্যারাগুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণার একক এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবলারদের এই ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় কীর্তিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতেই নিজের সেই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই জাতীয় ছুটি ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
|