যাদুকাটায় স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল: অতিরিক্ত ভাড়া ও অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি

যাদুকাটায় স্নানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল: অতিরিক্ত ভাড়া ও অব্যবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা নদীতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী পবিত্র স্নানোৎসব। চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গঙ্গার সমতুল্য পুণ্য লাভের আশায় দেশ-বিদেশের প্রায় চার লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ঢল নামে। তবে এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যাতায়াতে চরম অব্যবস্থাপনা, প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্নানোৎসব উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আগেভাগেই যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন ছিল না। সুনামগঞ্জ শহরের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে যাদুকাটা পর্যন্ত মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ২৫০ টাকার স্থলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং লেগুনা ও সিএনজিতে ১৭০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে পুণ্যার্থীদের দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অনেক পুণ্যার্থী অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ভাড়া নৈরাজ্য চললেও দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, সরু রাস্তা এবং তীব্র যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় বলে তারা বেশি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। মিয়ারচর নৌকা ঘাট থেকে পণতীর্থ পর্যন্ত ৪০ টাকার নির্ধারিত ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। মধ্যনগর থেকে আসা এক নৌকার মালিক অভিযোগ করেন, যাদুকাটা ব্রিজের নিচে নৌকা রাখার জন্য প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে প্রতিটি নৌকায় এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং চাঁদা দিতে না চাইলে মাঝিদের মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ একজনকে আটক করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, মানুষের উপস্থিতি এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল। কিন্তু পথের দুর্ভোগ এবং ভাড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য চলেছে, তাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র হয়রানির চেষ্টা করেছে, তবে পুলিশ সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। পবিত্র এই স্নানোৎসবের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

কে.এস.আই/সকালবেলা

মন্তব্য করুন