তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের মানুষ
আব্দুল্লাহ আল মামুন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর-হাজিরহাট সড়কের ধর্মতলা এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে তিন বছরেও শেষ হয়নি। ফলে হাজিরহাট, পাঁচকাটিয়া, ধর্মতলা, ভুলবাড়িয়া, পাড়িয়ালি, পদ্মনাথপুর, পোড়াঙ্গা ও বাহাদুরপুরসহ অন্তত আটটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মণিরামপুর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ১ মে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। সাতক্ষীরার ঠিকাদার মো. ইকবাল জোমার্দারের প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেলেও পরবর্তীতে স্থানীয় ঠিকাদার আব্দুল খালেক চুক্তিভিত্তিক কাজ পরিচালনা করেন।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মিতভাবে ধীরগতিতে নির্মাণকাজ চালানো হয়। কিছুদিন পর পর শ্রমিক দল বদলে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে কাজ করায় নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় তিন বছর হতে চললেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতু না থাকায় অস্থায়ী একটি সরু পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচলতি মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পথটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্থানীয় মাছচাষিরা পণ্য পরিবহনে ৮-১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন। সম্প্রতি ওই অস্থায়ী পথ পার হতে গিয়ে এক ব্যক্তি খাল ভেঙে পড়ে আহত হন এবং তার মালামাল নষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইয়াকুব আলী জানান, "সেতুর শাটারিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূলত এলাকায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়।" অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধতার অজুহাতে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—অঞ্চলের জলাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনাতেই প্রকল্প নকশা অনুমোদিত হয়েছিল, তাছাড়া পুরো তিন বছর নিশ্চয়ই জলাবদ্ধতা ছিল না; তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে কেন কাজ সম্পন্ন করা গেল না? তাঁরা অবিলম্বে সেতুটির নির্মাণ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এআইএল/সকালবেলা
|