জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে তদন্তের দাবি তাসনিম জারার
অনলাইন ডেস্ক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও এবং ওই তরুণীর জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) তাঁর 'জোর সুপারিশের' ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টির একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তরুণীটি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়। তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি সিভি ভাইরাল হয়, যেখানে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে এমপি সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে নিজের স্বাক্ষর দেন। সিভিতে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকা এবং মাত্র আঠারো বছর বয়সী তরুণীর এসএসসির পর অভাবের কারণে চাকরি খোঁজার বিষয়টি সামনে আসতেই নতুন করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাসনিম জারা এই পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
পোস্টে জারা লেখেন, "সিভি অনুযায়ী মেয়েটির বয়স মাত্র আঠারো। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এ দেশে গরিবের চাকরি হওয়ার শেষ ধাপ হিসেবে একজন এমপির সুপারিশের প্রয়োজন পড়েছিল। সিভিতে সই পড়ল, জোর সুপারিশও করা হলো। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে?"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমরা নিশ্চিত নই, তবে যে সম্ভাবনাটা এখন সামনে এসেছে তা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো— জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের জোর খাটিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে একটা অসহায় মেয়েকে জিম্মি করেছেন কি না। এই প্রশ্নটি সংসদ এড়িয়ে যেতে পারে না।"
তাসনিম জারা জোর দিয়ে বলেন, যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণ সামনে এসেছে। তাই সংসদ থেকে নিরপেক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আসল সত্যিটা খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হবেন, আর সত্য প্রমাণিত হলে ‘মহান সংসদ’-এর মর্যাদা রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলের সুপারিশ সংস্কৃতির সমালোচনা করে জারা বলেন, প্রতিটি সরকার বা দল জিরো টলারেন্সের কথা বললেও বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে জিম্মি রাখার এই সই-সুপারিশের প্রথা বন্ধ হয়নি। আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের এই অসহায়ত্ব ও জিম্মিদশার সুযোগ শেষ পর্যন্ত কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
|