নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আ.লীগ কর্মী সহ গ্রেপ্তার ৭৭

প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আ.লীগ কর্মী সহ গ্রেপ্তার ৭৭
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত আসামি

নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে জেলার সাতটি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচালিত এক যৌথ বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সদস্যসহ মোট ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিনভর পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে ৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি, ৫৭ জন মাদকসেবী, অন্যান্য সুনির্দিষ্ট আইনে ৯ জন এবং বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৮ জন সক্রিয় সদস্যসহ মোট ৭৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—

  • নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ: ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারি, একজন মাদকসেবী এবং আগের মামলার দুজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

  • ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ: মাদকসেবী ৪৩ জন, অন্যান্য আইনের চারজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের তিনজনসহ মোট ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

  • বন্দর থানা পুলিশ: পাঁচজন মাদকসেবী ও অন্যান্য আইনে একজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

  • রূপগঞ্জ থানা পুলিশ: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ: ছয়জন মাদকসেবী, অন্যান্য আইনে একজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের একজনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

  • আড়াইহাজার থানা পুলিশ: দুই কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী, অন্যান্য আইনের একজন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

  • সোনারগাঁ থানা পুলিশ: অন্যান্য আইনে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

  • এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি): ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আরও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এই অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির যেকোনো ধরনের গোপন বা প্রকাশ্য অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

মন্তব্য করুন