নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ: দিশেহারা দুই পরিবার

নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ: দিশেহারা দুই পরিবার

মোঃ মামুন রহমান, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি সরকারি ঘর উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের ডিক্রি মূলে এক আইনজীবী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় চরম বিপাকে পড়েছে দুটি ভূমিহীন পরিবার। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা এলাকার ‘একাত্তর আশ্রয়ণ প্রকল্পে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় আইনজীবী রামেন্দ্র চন্দ্র পাল ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে পঞ্চগড় আদালতের উচ্ছেদ আদেশের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও কোর্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্কেভেটর দিয়ে ঘরগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন। রামেন্দ্র চন্দ্র পাল জানান, ২০২২ সালে তিনি সম্পত্তির মালিকানা চেয়ে মামলা করেছিলেন। ২০২৪ সালে মামলার রায় পান এবং ২০২৬ সালে আদালত উচ্ছেদের পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের সেই আদেশ মোতাবেক তিনি আজ দখল বুঝে নিয়েছেন।

আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যুগিকাটা মৌজার ১২ শতক জমির মধ্যে ৯ শতক পরিত্যক্ত থাকায় এবং দীর্ঘদিন ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া থাকায় ১৯৬২ সালে তা লা-ওয়ারিশ জমি হিসেবে খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়। তৎকালীন সময়ে ‘রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯২ (গ) ধারা মোতাবেক’ জমিটি খাস ঘোষণা করে সেখানে ভূমিহীনদের জন্য সরকারি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, "আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উচ্ছেদের খবর পেয়ে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এই জমি নিয়ে মামলা বা উচ্ছেদের পরোয়ানা সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনকে কোনো পক্ষই আগে থেকে অবহিত করেনি। আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বাধা প্রদান করিনি, তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এই মামলার মোকাবিলা করা হবে।"

বিনা নোটিশে ঘর ভেঙে ফেলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এক নারী ভুক্তভোগী কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, সরকারের দেওয়া ঘরে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে এসে ঘর ভেঙে ফেলায় ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে এখন কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। আমাদের সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।"

আগে থেকে কোনো নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে উচ্ছেদ করায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিরপরাধ অসহায় পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন