ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পলাশ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম আবির্ভাব দিবস। এই উপলক্ষ্যে সারা দেশ ও দেশের বাহির থেকে আসা লাখ লাখ মতুয়া ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো ওড়াকান্দি ধাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) ভোর থেকেই ডঙ্কা বাজিয়ে ও উলুধ্বনি দিয়ে কীর্তন করতে করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ওড়াকান্দিতে সমবেত হতে থাকেন। পাপমুক্ত হয়ে শান্তি লাভের আশায় ভক্তরা ওড়াকান্দির পবিত্র ‘শান্তিসাগর’ ও ‘কামসাগরে’ পুণ্যস্নান সম্পন্ন করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই বিশেষ তিথিতে শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী ভারত থেকেও অসংখ্য পুণ্যার্থী ওড়াকান্দিতে উপস্থিত হয়েছেন। মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ সালে (সূত্রভেদে ১৭১১ বঙ্গাব্দ) এই ওড়াকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অবহেলিত ও নিম্নবর্ণের মানুষকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এবং আত্মপরিচয় সৃষ্টিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
পুণ্যস্নান ও বারুণী উৎসবকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৬ মার্চ) ও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুই দিনব্যাপী মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এলাকায় তিন দিনব্যাপী এক বিশাল গ্রামীণ মেলা শুরু হয়েছে। মেলাটি স্নান কার্য শেষ হওয়ার পরও আরও কয়েক দিন চলবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পুণ্যস্নান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গোপালগঞ্জ-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম ও ডা. কে এম বাবরসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ এবং কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিন মিয়া মেলা ও স্নান এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহলে উৎসবটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। ভক্তদের মতে, হরিচাঁদ ঠাকুরের কাছে নিজেদের মঙ্গল ও দেশবাসীর কল্যাণে প্রার্থনা করাই তাদের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ