কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও লাখো মুসল্লির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সব বাধা উপেক্ষা করে ঈদের নামাজে অংশ নেন, যা পুরো ঈদগাহ এলাকাকে এক অনন্য ও অভূতপূর্ব দৃশ্যে রূপ দেয়।
ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ জেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে নামা মুষলধারে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ছাতা ও রেইনকোট মাথায় দিয়ে পায়ে হেঁটে কিংবা বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে লাখো মানুষ ঈদগাহে উপস্থিত হন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় শোলাকিয়ার এই প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহাসিক এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব ও শোলাকিয়া ঈদগাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আলেম। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিপীড়নের শিকার মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে বিশেষভাবে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও তীব্র সংকটে থাকা মুসলমানদের হেফাজত ও মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণ কামনা করা হয়।
টানা বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ মাঠের কিছু কিছু জায়গায় কাদামাটির সৃষ্টি হলেও মুসল্লিদের আবেগ ও উপস্থিতিতে কোনো কমতি ছিল না। অবশ্য জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন আগেই সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে পুরো মাঠে ত্রিপল, অস্থায়ী ছাউনি এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। ফলে বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও নামাজ আদায়ে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
এদিকে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়া ঈদগাহ ও এর চারপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়োজিত ছিলেন। মাঠের প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে এবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে ঈদের ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্য এ দেশের মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে প্রোথিত। নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা কাদার মাঝেই একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কোরবানির প্রস্তুতি নিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
এম.এম/সকালবেলা